Breaking News

নতুন শিক্ষাক্রম: যা থাকছে তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তিদের জন্য!

হিজড়াদের ২০১৩ সালের নভেম্বর তৃতীয় লিঙ্গের স্বীকৃতি দেয় সরকার। এরপর ২০১৯ সালে জাতীয় পরিচয়পত্রে তৃতীয় লিঙ্গ হিসেবে পরিচয় পান, একই সঙ্গে ভোট দেয়ার অধিকার পান। এবার প্রথমবারের মত তৃতীয় লিঙ্গ হিসেবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়ালেখা করতে পারবে তারা। ২০২২ সাল থেকে নতুন শিক্ষা-পদ্ধতিতে পাঠ্যসূচী চালু করার ফ্রেমওয়ার্ক করেছেন। এজন্য নতুন শিক্ষাক্রম চালু করতে যাচ্ছে সরকার।

বাংলাদেশের জাতীয় শিক্ষাক্রম এবং পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) বলছে, প্রথমবারের মত এখন থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়ার সময় প্রত্যেকে তার নিজের পরিচয় ব্যবহার করে ভর্তি হতে পারবে।

এনসিটিবির অধ্যাপক মশিউজ্জামান বলছেন, এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ রয়েছে। এছাড়া নতুন শিক্ষাসূচী তৃতীয় লিঙ্গদের নিয়ে বিষদ আকারে বর্ণনা থাকবে।

তিনি বলেন, “যে যে পরিচয় দিতে চায় সে পরিচয়ে ভর্তি হবে পারবেন। প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন যেহেতু তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তিদের আইনি এবং রাষ্ট্রীয় অধিকার দেয়া হয়েছে সেহেতু কোন প্রতিষ্ঠান যেন ভর্তি করা থেকে বিরত না থাকে।”

তিনি আরো বলেন, সব রকম ফর্ম, সেটা ভর্তি ফর্ম হোক আর যেকোন ফর্ম হোক, সেখানে নারী-পুরুষের পাশাপাশি তৃতীয় লিঙ্গ এই কথাটা থাকতে হবে। এ মাসের ১৩ তারিখের এক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এই নির্দেশ দেন বলে তিনি জানান।

তৃতীয় লিঙ্গের অধিকার নিয়ে যারা কাজ করেন তারা পরামর্শ দিচ্ছেন, যদি একজন ছেলে হিসেবে শিক্ষা শুরু করে এক পর্যায়ে নিজের পরিচয় নারীতে পরিবর্তন করতে চায় তাহলে সেটার যেন সুব্যবস্থা থাকে।

হিজড়াদের অধিকার নিয়ে আন্দোলনকারী সংগঠন ‘সম্পর্কের নয়া সেতু’র সভাপতি জয়া শিকদার বলছেন, পুরুষ হিসেবে পড়ালেখা করার কারণে তার সার্টিফিকেট থাকে পুরুষের নামে। পরে রূপান্তরিত হওয়ার পর এই পরিচয় তাকে সব ক্ষেত্রে বেশি ভোগায়।

“১৮ বছর বয়সের পর যদি কেউ মনে করে আমার শরীর পুরুষের কিন্তু আমি নারী। সে নারীর পোশাক পরতে পারে, সার্জারির মাধ্যমে নারী থেকে পুরুষ বা পুরুষ থেকে নারী হতে পারে। কিংবা কিছু নাও করতে পারে।”

“বিষয়টা তার মনস্তাত্ত্বিক। তখন তার এই রূপান্তরের প্রক্রিয়া যাতে সহজ হয়। যাতে করে তার মেডিকেল কোন পরীক্ষার মাধ্যমে নিজেকে প্রমাণ করতে না হয়। সরকারি সব ডকুমেন্টে তার পছন্দের পরিচয়টা থাকতে হবে। তাহলে রাষ্ট্রের সব সুযোগ সুবিধা সে ভোগ করতে পারবে,” বলেন তিনি।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশে সাধারণত একটি শিশু জন্মের পর তার লিঙ্গ পরিচয়ের ভিত্তিতে অভিভাবকরা মেয়ে বা ছেলে হিসেবে স্কুলে ভর্তি করিয়ে থাকেন। তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তিরা সামাজিক ট্যাবুর শিকার হন অনেক সময় তাদের শিক্ষা কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয়। নতুন এই পাঠ্যক্রম চালু হলে শিক্ষা ক্ষেত্রে এগিয়ে আসবে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষরা।

About desk

Check Also

বিশাল সুখবরঃ চাকরিতে হয়রানি কমাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে সত্যায়ন প্রক্রিয়া

অধিকাংশ সরকারি চাকরিতে আবেদনের ক্ষেত্রে সত্যায়ন প্রক্রিয়া থাকায় অনেক সময় প্রার্থীকে ব্যাপক ঝামেলার মধ্যে পড়তে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *